নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ, জ্বালানি ব্যয় কমানো, পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তার শিল্প কারখানা বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড-এ (বাকেশি) এক মেগাওয়াট (এসি) ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার প্লান্ট স্থাপিত হয়েছে। এটি স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৭১৫ টাকা। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে গত ৪০ দিন ৩৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। প্লান্টের প্রত্যেকটি প্যানেলের স্থায়িত্ব ২০ বছর। ব্যয় উঠতে সময় লাগবে চার বছর।
প্রতিষ্ঠানের জিএম (উৎপাদন) প্রকৌশলী এনামুল হক খুলনা গেজেটকে বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে সোলার প্লান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঝঈটইঊ টেকনোলজি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্লান্টের প্রোডাক্টগুলো বিদেশ থেকে আমদানিকৃত। চূড়ান্তভাবে প্লান্ট স্থাপনের পর চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ট্রায়ালে ছিল।
মূলতঃ কমিশনিং আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনে আসে ২৯ জুলাই থেকে। একই দিন বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকোর)’র সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নেট মিটারিং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরাটাই জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। প্রতিষ্ঠানের ৯০০ কিলোওয়াট চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ওজেপাডিকো গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করছে। তাদের সঙ্গে বিল সমন্বয়ের পর প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানের সাশ্রয় হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা।
ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত তারা অতিরিক্ত ৩৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ নিয়েছে। যেটা গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করেছে। বর্তমানে প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক দশমিক এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। খরচের ব্যয় রিটার্নের টার্গেট ছিল সাড়ে চার বছর। কিন্তু এখন যে হারে প্রোডাকশন হচ্ছে, আবহাওয়া যদি ভালো থাকে, কোনো দুর্যোগ না হয়, সানলাইট ভালো আসে, তাহলে সাড়ে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে খরচের টাকা রিটার্ন আসবে।
তিনি বলেন, প্লান্ট স্থাপনের বাইরে বাড়তি কোনো খরচ নেই। প্রাথমিক খরচ বলতে ছাদের উপর প্যানেলগুলো নিয়মিত সপ্তাহে একদিন পরিষ্কার করা। এর জন্য বাড়তি খরচ নেই। নিজেদের লোক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। প্রত্যেকটি প্যানেলের দায়িত্ব হবে ২০ বছর। ৩০ বছরও যায়। ২০ বছর পর ৮৬ শতাংশ আউটপুট পাওয়া যাবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

